Sponser

ড্রিমক্যাচারের আদ্যোপান্ত

হ য ব র ল
UPDATED: May 19, 2018

আমরা অনেকেই ড্রিমকেচার  দেখেছি অথবা নাম শুনেছি। কিন্তু এই ড্রিম কেচারের এর পিছনে একটি ইতিহাস আছে। আজকে আমরা তা জানবো।

বর্তমানের ড্রিমকেচার নানা রঙ ও আকারের হয়ে থাকে। এতে ব্যাবহার করা হয় বিভিন্ন পুতি , সুতা পালক সহ অনেক কিছু। মুল চাকতিটিও সুন্দর করে বুনা হয়ে থাকে। কিন্তু আসল যে ড্রিমকেচার আমেরিকান ইন্ডিয়া্নরা বানাত তা ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক । রেড উইলো গাছের পাতলা ডাল বাঁকিয়ে তৈরি করা হত চাকতিটি। পরে এটি চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা হত। আকার ও হতো দুই তিন ইঞ্চির বেশিনা।

ড্রিমকেচার সমগ্র আদি আমেরিকানদের ঐতিহ্য এর মনে করা হলেও এটি মূলত অজিবা চিপাওা (Ojibwa Chippewa) গোত্রের। লাকোতা (Lakota) গোত্রের ইতিহাসে ড্রিমকেচার থাকলেও নৃতত্ত্ববিদরা মনে করেন অজিবা চিপাওা গোত্রের বিয়ের অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আদান প্রদান থেকেই এটি এসেছে। অজিবাদের ভাষায় ড্রিমকেচারের নাম asabikeshiinh যার অর্থ মাকড়সা যেটি চাকতি্র উপর মাকড়শার মত বুনন কে বুঝায়।

মাকড়সাকে অনেকেই ভয় পেলেও অজিবা গোত্রে একে মনে করা হতো রক্ষা ও শান্তির প্রতিক। তাদের বৃদ্ধ মাকড়সা মা (কোন বিশেষ জ্ঞানী মহিলা) তাদের সন্তানদের রক্ষা করতেন। কিন্তু দিন কে দিন যখন অজিবা গোত্র বড় হতে শুরু করলো এবং অনেক দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া শুরু করলো মাকড়সা মায়ের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো সবাইকে রক্ষা করা। প্রথম তিনি তখন তৈরি করেন ড্রিমকেচার। তার দেখাদেখি মা এবং দাদিনানিরা ড্রিমকেচারের প্রচলন শুরু করে তাদের সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তার প্রতীক হিসাবে।

অজিবা বিশ্বাস মতে এই ড্রিম কেচার ঘুমন্ত মানুষকে বিশেষ করে শিশুদের দুঃস্বপ্ন থেকে রক্ষা করে। তারা বিশ্বাস করতো রাতের বাতাস খারাপ ভাল দুইরকম সপ্নই আনে। ড্রিমকেচার তখন সেই খারাপ সপ্ন গুলোকে তার মাকড়শার মতো জালে ধরে ফেলে এবং ভাল সপ্ন গুলোকে পালকের মাধ্যমে ঘুমন্ত মানুষকে দিয়ে দেয়। সকালের প্রথম সূর্যের আলো যখন ড্রিমকেচারে পড়ে সেটি ধ্বংস করে দেয় রাতের খারাপ স্বপ্ন গুলোকে।

ড্রিমকেচারের গোল চাকতিটি জীবনের ও চন্দ্র সূর্য যে পৃথিবীকে বৃত্তাকার ভাবে ঘুরে তার প্রতীক। আর নরম পালক গুলো দিয়ে বুঝায় ভাল স্বপ্ন গুলো কিভাবে আলতো করে ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে পৌছায়।

যদিও এখন এটি ঘর সাজানোর মাধ্যম হিসাবে ব্যাবহার হয়ে থাকে বেশিরভাগ স্থানে। আমাদের বাংলাদেশেও এখন এটি জনপ্রিয়। উপহার হিসাবে ও মানুষ একে এখন পছন্দ করে। দেশীয় বিভিন্ন হস্তশিল্পবিদরা অনেক সুন্দর সুন্দর ড্রিমকেচার তৈরি করে তাদের উপার্জন বৃদ্ধি করছেন, অনেকে আবার শখ করেও বানায়।

ডিজাইন হিসাবেও ড্রিম কেচার অনেক জনপ্রিয়। নানা রঙের ড্রিমকেচার এর দেখা মেলে টি শার্টে , মগে, কাপড়ে কিংবা ট্যাটু হিসাবে মানবদেহে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.